
লিটন সরকার রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার এক প্রবাসী নারী ওমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে সেখানে রেখে স্বামী দেশে ফিরে এসেছেন এমন অভিযোগ তুলেছেন ওই নারীর পরিবার। বর্তমানে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাইটকামারী গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে সুমি খাতুনের সঙ্গে একই উপজেলার টাপুরচর গ্রামের ছাবের আলীর ছেলে বাবলু মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাবলু মিয়া কর্মসূত্রে ওমানে যান। পরে গত বছর স্বামীর অনুরোধে সুমি খাতুনও ওমানে পাড়ি জমান।পরিবারের অভিযোগ, ওমানে যাওয়ার কিছুদিন পর সুমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরিবর্তে বাবলু মিয়া তাকে অসহায় অবস্থায় রেখে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর তিনি সুমি খাতুনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বর্তমানে সুমি কোথায় আছেন বা কী অবস্থায় আছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি পরিবারের।
সুমি খাতুনের বাবা সাইদুর রহমান বলেন, মেয়েকে অনেক আশা নিয়ে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এখন তিনি বেঁচে আছেন কি না, সেটিও তারা জানেন না। মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সুমির মা-ও একই অভিযোগ করে বলেন, অসুস্থ মেয়েকে বিদেশে রেখে আসা অমানবিক কাজ। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল সুমি খাতুনের অবস্থান নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বাবলু মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।



