
মোঃ ওয়াজেদ আলী, স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরের সদর উপজেলার সতীঘাটা এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে একটি মাছের পুকুরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চৌঘাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি মো. লিটন জানান, ধার-দেনা করে প্রায় ২৫ কাঠা আয়তনের একটি পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করেছিলেন তিনি। রেণু পোনা, মাছের খাদ্য ও পরিচর্যাসহ চাষাবাদে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেন। আর কিছুদিন পর মাছ বিক্রি করে দুই লাখ টাকার বেশি আয় হবে বলে আশা করেছিলেন।
তিনি জানান, সোমবার সকালে পুকুরে গিয়ে দেখেন গ্লাস কার্প, কাতলা, রুই, ব্রিগেড, সিলভার কার্প ও পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৫ থেকে ১৬ মণ মাছ মরে ভেসে উঠেছে। মৃত মাছগুলোর ওজন ছিল প্রায় ১০০ গ্রাম থেকে ৩ কেজি ৫০ গ্রাম পর্যন্ত। পুকুরে থাকা সব ধরনের মাছই বিষক্রিয়ায় মারা গেছে।
পরে পুকুরে নেমে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেটের নমুনা পাওয়া যায়। এতে তার আনুমানিক দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিটন বলেন, “কে বা কারা রাতে পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে সব মাছ মেরে ফেলেছে। আমি কাউকে দেখিনি, তাই নির্দিষ্ট করে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগও করতে পারছি না। এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা হলো কীভাবে ধার-দেনা পরিশোধ করব।”
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত পুকুরে গিয়ে বিষ প্রয়োগে মারা যাওয়া মাছগুলো ধরে নিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, “লিটন একজন সহজ-সরল মানুষ। তার মতো একজনের এত বড় ক্ষতি কেউ করতে পারে, তা কল্পনাও করা যায় না। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।”
এ বিষয়ে রূপদিয়া ফাঁড়ির এসআই কবির হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এলাকাবাসীও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



