
ওয়াজেদ আলী, স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরের মুক্তেশ্বরী নদীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিলহরিণা এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিলে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় চলতি আমন মৌসুমে ধানের চারা রোপণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুক্তেশ্বরী নদীর বিভিন্ন অংশে কচুরিপানা, অবৈধ নেট, পাটা ও বাঁধের কারণে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিলের জমে থাকা পানি বের হতে না পেরে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক মহিতোষ বলেন, “বিলহরিণায় আমার ৬ থেকে ৭ বিঘা ধানি জমি রয়েছে। ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সব জমি পানির নিচে। দ্রুত মুক্তেশ্বরী নদীর সঙ্গে বিল ও খালের সংযোগস্থলে থাকা সব ধরনের নেট, পাটা ও বাঁধ অপসারণ করতে হবে। বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ মুক্তেশ্বরী নদী। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে না আনলে শত শত কৃষক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন।”
তিনি আরও বলেন, সংযোগকারী খালগুলো জরুরি ভিত্তিতে পরিষ্কার বা পুনঃখনন করতে হবে এবং স্লুইস গেটের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ তদারকি প্রয়োজন।
কৃষকদের ভাষ্য, সময়মতো আমন ধানের চারা রোপণ করা না গেলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। ইতোমধ্যে অনেক বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং চারা পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জমি পতিত থাকলে প্রান্তিক কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের প্রধান খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে গেলে স্থানীয় বাজারে চালের সরবরাহ ও দামের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, মুক্তেশ্বরী নদীর যেসব স্থানে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি নদী ও সংযোগকারী খালগুলো সচল করে স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
কৃষকদের আশা, প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে জলাবদ্ধতার অবসান ঘটিয়ে আমন মৌসুম রক্ষা করা সম্ভব হবে।



