
রংপুর প্রতিনিধি।।
রংপুর মহানগরীর ঘাঘট নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলছেন এলাকাবাসী। রংপুর হাজিরহাট মেট্রোপলিটন থানাধীন ১২ নং ওয়ার্ড রাধাকৃষ্ণপুর, ভবানীপুর ও জলকরিয়া এলাকায় ঘাঘট নদীতে দিনে ও রাঁতের আঁধারে চলছে প্রকাশ্য অবৈধভাবে বালু উত্তোলন।
গতকাল বুধবার (১০জুন) দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় বরাবর বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এলাকাবাসী। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চলছে বালু উত্তোলন। এতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৃষিজমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। সরকার কর্তৃক নির্মাণ হতদরিদ্রদের আবাসন প্রকল্পের বসতবাড়ি হুমকির মুখে। যে কোন মুহূর্তে দাবিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আবাসন এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র রাস্তাটি এই বালুবাহী ট্রাকের দখলে। তাদের যাতাযাতের সমস্যা ও ঝুঁকিপুর্ণ। নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ড্রেজারে বিকট শব্দে পড়াশোনার ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে, ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। বিগত সরকারের আমল থেকে আজও কয়েকজন প্রভাবশালী বালু খেকোর দখলে ঘাঘট নদী। আজও বন্ধ হয়নি বালুর উত্তোলন মহাউৎসব। এলাকাবাসী আরও জানান, মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা হলেও তা কাজে আসেনা,দিনে অভিযান হলেও অপরাধীরা রাত থেকে আবার বালু উত্তোলন উৎসবে মেতে ওঠে। দৃশ্যমান বা স্থায়ী প্রতিকার চায় এলাকাবাসী। অভিযানে শুধু যৎসামান্য জরিমানা না করে অপরাধীদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল হাজত বাস দিলে এই অপরাধগুলো অনেকাংশে কমে যাবে বলে ধারণা এলাকাবাসীর।
প্রশাসন যেন রহস্যজনকভাবে নির্বিকার দর্শকের ভূমিকায়।
সরকার একের পর এক কঠোর আইন করছে, সভা-সেমিনারে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের নদ-নদী আজ যেন প্রভাবশালী বালু খেকো সিন্ডিকেটের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন’ অনুযায়ী অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান। অথচ সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিরাতেই ঘাঘট নদীতে বসছে দশের অধিক শক্তিশালী ড্রেজার। শত শত
ট্রাক ও মাহেন্দ্রাগাড়ী করে লুট করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ”।
স্থানীয় এক সচেতন ব্যক্তি বলেন, এই অবৈধ বালু বাণিজ্যের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছয়া, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার নীরব সহযোগিতা। না হলে রাতের পর রাত এত বড় আকারে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসনের চোঁখে পড়ে না কেন? নদীতে অবৈধ ড্রেজারের গর্জন সাধারণ মানুষ শুনতে পায়, কিন্তু দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ শুনতে পায় না এমন প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
জনসাধারণের প্রশ্ন আইন কি শুধু সাধারণ মানুষের জন্য? প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে কি সব আইন অকার্যকর হয়ে যায়? প্রশাসন কি সত্যিই অসহায়, নাকি সুবিধাভোগীদের স্বার্থ রক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব?
এভাবে চলতে থাকলে শুধু নদী নয়,পুরো পরিবেশ ও জনজীবন ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ও নিরপেক্ষ অভিযান পরিচালনা না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এর চরম মূল্য দিতে হবে। জনগণ দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি উঠেছে সর্বমহলে। ঘাঘট নদী আজ প্রশ্ন তুলছে রাষ্ট্রের আইন কি সত্যিই কার্যকর, নাকি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে সবকিছু জিম্মি?
আইনে বলা আছে, আইন অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বা মাটি উত্তোলন করলে সর্বোচ্চ দুই বছরে কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দণ্ডিত হইবে।



