
রুপম চাকমা বাঘাইছড়ি,রাঙ্গামাটি
রাঙামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের পর্যটকদের কাছে বিলাসবহুল ভ্রমণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সাজেক ভ্যালি। মেঘের রাজ্য খ্যাত এই পাহাড়ি জনপদে সারাবছরই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে।
উন্নতমানের রিসোর্ট, আধুনিক কটেজ আর দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামোর ঝলকানিতে সাজেক আজ এক অভিজাত পর্যটন ব্র্যান্ড। কিন্তু এই বাহ্যিক জৌলুসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভিন্ন বাস্তবতা—সুবিধাবঞ্চিত আদিবাসী শিশুদের একটি বাঁশের তৈরি স্কুল, যেখানে নেই ন্যূনতম সরকারি সুযোগ-সুবিধা।
সাজেক ইউনিয়নের শুকনোছড়া প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ছোট্ট একটি বাঁশের স্কুলঘর। সনের ছাউনি আর বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরি এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শিশু। বর্ষাকালে কাঁদামাটির পথ পেরিয়ে, অনেকেই খালি পায়ে স্কুলে আসে। ঝড়-বৃষ্টিতে স্কুলঘরের ভেতর পানি পড়ে, তবুও থেমে থাকে না তাদের শেখার আগ্রহ।
বিদ্যালয়টিতে নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ-ডেস্ক, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ বা নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। শিক্ষকও মাত্র একজন বা দুজন, যারা সামান্য ভাতায় শিক্ষাদান চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি না থাকায় শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই, উপবৃত্তি কিংবা মিড-ডে মিলের মতো সুবিধা থেকেও বঞ্চিত।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, পর্যটন খাত থেকে বিপুল রাজস্ব আয় হলেও সেই উন্নয়নের ছোঁয়া তাদের সন্তানের শিক্ষাক্ষেত্রে পৌঁছায়নি। তারা চান, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই বিদ্যালয়কে সরকারি তালিকাভুক্ত করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করুক।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে টেকসই উন্নয়নের জন্য পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় উন্নয়নের বৈষম্য আরও প্রকট হবে।
বিলাসবহুল রিসোর্ট আর প্রকৃতির মোহনীয় সৌন্দর্যের আড়ালে সাজেকের এই বাঁশের স্কুল যেন নীরবে মনে করিয়ে দেয়—উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড শুধু অবকাঠামো নয়, বরং সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
এই বিষয়ে বাঘাইহাট ৪নং ওযার্ডের মেম্বার দয়াধন চাকমা বলেন আমরা ও খুবই সিমিটি বরাদ্দ পেয়ে থাকি জার কারনে স্কুলটি নির্মাণ করতে পারছি না তবে সামনে বরাদ্দ হলে স্কুলটি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান।



