
স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরে লাইসেন্সের অপব্যবহার করে প্রকাশ্যে চলছে প্রাণঘাতী তাঁড়ি ও এলকো বিক্রি তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে আতঙ্কে এলাকাবাসী প্রশাসন কেন নিরব?
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কুয়াদা এলাকা এখন কার্যত অবৈধ মাদক ব্যবসার উন্মুক্ত আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
প্রকাশ্যে চলছে ভেজাল তাঁড়ি ও এলকো (মাদকজাতীয় দ্রব্য) উৎপাদন, বিক্রি ও সেবন। একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ ও স্থানীয়দের অভিযোগ সত্ত্বেও প্রশাসনের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় মাদককারবারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—আইনের চোখ কি এখানে বন্ধ?
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। খেজুরের রসের সঙ্গে পানি, ভাতের মাড়, ঘুমের ওষুধ এবং বিষাক্ত মেহগনি গাছের বাকুল মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রাণঘাতী তাঁড়ি।
এই ভেজাল মদ কুয়াদা বাজারসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে দিনের আলোতেই বিক্রি ও সেবন করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মনিরামপুর উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়নের জামজামি গ্রামের হঠাৎপাড়ার মৃত হোসেন আলী বিশ্বাসের ছেলে জব্বার বিশ্বাস (৪৮) ও তার ছেলে মুরাদ হোসেন (২৬) যশোর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আসলাম হোসেনের স্বাক্ষরিত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য যশোর সদরের মোহনগঞ্জ এলাকার একটি তাঁড়ির দোকানের গাছি হিসেবে সাময়িক লাইসেন্স পান।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং লাইসেন্সের শর্ত উপেক্ষা করে তারা নিজ এলাকা কুয়াদায় অবৈধভাবে তাঁড়ি উৎপাদন ও বিক্রি করছেন।
অর্থাৎ বৈধতার আড়ালে চলছে প্রকাশ্য আইন লঙ্ঘন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই মাঠ, পুকুরপাড়, আড়ো রাস্তা ও ফুলের নার্সারিতে বসে বাপ–বেটা মিলে রমরমা মাদক ব্যবসা চালানো হয়। কুয়াদা বাজার এখন মাদক কেনাবেচার ভয়ংকর কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে তরুণ সমাজকে।
এছাড়াও কুয়াদা বাজার এলাকায় এলকো বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে জামজামি ইউনিয়নের আজিজুর বিশ্বাসের ছেলে বিল্লাল হোসেন (২৮), জামজামি গ্রামের আসলাম এবং ভোজগাতী গ্রামের নুরোসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পাহাড় থাকলেও কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
স্থানীয়দের মতে, কুয়াদা বাজার দুটি থানার মধ্যবর্তী এলাকায় হওয়ায় নিয়মিত পুলিশি নজরদারি নেই বললেই চলে। এই প্রশাসনিক ফাঁকফোকরকে কাজে লাগিয়ে মাদককারবারিরা নির্বিঘ্নে গড়ে তুলেছে অবৈধ সাম্রাজ্য। এর ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, যুবসমাজ এমনকি শ্রমজীবী মানুষও মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে।
অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা জানান, মাদক ব্যবসা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতা ও সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তবে মাদককারবারিদের প্রভাব ও ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) একাধিকবার অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অভিযান পরিচালিত হয়নি। এতে জনমনে তীব্র প্রশ্ন—এই মাদককারবারিরা কার আশ্রয়ে এতটা বেপরোয়া?
প্রশাসনের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। কুয়াদায় কি তবে মাদকবিরোধী আইন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ? নাকি অবৈধ এই ব্যবসার পেছনে রয়েছে অদৃশ্য শক্তিশালী হাত?
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



