Friday, July 24, 2026

যশোরের সতীঘাটায় জমির মালিকানা দা’বিতে স্কুল মাঠে বেড়া ৩২ বছরের জমি জটিলতায় উত্তেজনা

Date:

Share post:

মোঃ ওয়াজেদ আলী, স্টাফ রিপোর্টার:

যশোর সদর উপজেলার সতীঘাটা দক্ষিণ ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমির মালিকানা দাবিকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝ দিয়ে বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠার সময় বিদ্যালয়ের জন্য ভাটপাড়া গ্রামের মৃত হাজারী লাল সরকারের দুই ছেলে—মৃত রবীন্দ্রনাথ সরকার ও নারায়ণ চন্দ্র সরকার—যথাক্রমে ১৭ শতাংশ ও ১৬ শতাংশ, মোট ৩৩ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ভাটপাড়া মৌজার ৯৮১ ও ৯৮২ দাগের মোট ৩৩ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রি করা হলেও বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হয় একই মৌজার ৯৮০ নম্বর দাগের জমিতে। স্থানীয়দের দাবি, দানকৃত জমির পরিবর্তে অন্যত্র সমপরিমাণ জমি দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ৩২ বছরেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া বিদ্যালয়ের নামে জমি রেজিস্ট্রি হলেও এখনো নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় অনীল সরকারের দুই ছেলে দীপংকার সরকার ও সুশান্ত সরকার তাদের দাবি করা জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝ দিয়ে বেড়া নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র সরকার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই জানতেন। জমির মালিকরা কয়েক মাস আগে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান চাইলেও তিনি বারবার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেছেন।

তাদের দাবি, প্রধান শিক্ষকের অবসরের আর প্রায় দুই বছর বাকি থাকলেও তিনি কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র সরকার বলেন, “দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে ৯৮০ দাগের মোট ২৪ শতাংশ জমির মধ্যে বিদ্যালয় ১৭ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছে।

এছাড়া বিদ্যালয়ের নামে ৯৮১ ও ৯৮২ দাগে মোট ৩৩ শতাংশ জমি রয়েছে। তিনি আরও স্বীকার করেন, বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে ৯৮০ দাগের ১৭ শতাংশ জমিও ব্যবহার করে আসছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) তৌহিদুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠে বেড়া দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিনের এই জটিলতা নিরসনে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিরোধের সৃষ্টি হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সম্পর্কিত নিবন্ধ

সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁ’দা দাবি বাগআঁচড়ায় হোটেল ব্যবসায়ীকে হু”মকি থানায় অ”ভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: যশোরের শার্শার বাগআঁচড়া বাজারে এক রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীর কাছে সাংবাদিক পরিচয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও হোটেল...

যশোরে প্র”তারণার অ”ভিযোগে কথিত সাংবাদিক নজরুলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার: যশোরের ঝিকরগাছায় কথিত সাংবাদিক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমি প্রতারণা, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে...

যশোরে  ওয়ার্ড বিএনপির কর্মীর মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত 

মোঃ ওয়াজেদ আলী,  স্টাফ রিপোর্টার: যশোর সদর উপজেলা রামনগর ইউনিয়নের ০৫ নং ওয়ার্ড বিএনপি এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে...

আজ ডহুরী দিবস ও শহীদ গোবিন্দ দত্তের ৩৮তম মৃ’ত্যুবার্ষিকী

স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোরঃ ঐতিহাসিক ডহুরী দিবস ও শহীদ গোবিন্দ দত্তের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কৃষক সংগ্রাম সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে...