
স্বক্রিয় সিন্ডিকেটঃ
এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ
দিন গেলেই যশোরের মণিরামপুর পৌরশহর ও উপজেলা ব্যাপী বাড়ছে মাদকদ্রব্য ইয়াবার আগ্রাসন। প্রশাসনের দূর্বলতা ও মাদক কারবারিদের সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দের সামঞ্জস্যতায় সিন্ডিকেট ভিত্তিকভাবে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ভীত শক্ত করে তুলেছে। তবে চলতি এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলছে,ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরপরই যশোর জেলা ব্যাপী যে মাদক অভিযান শুরু হয়েছিলো তার মন্থর গতির কারনে মাদক কারবারিরা দিনের পর দিন প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। তথ্য সূত্রের অভিযোগ আছে,চলতি এ অনুসন্ধান চলাকালে যশোরের মণিরামপুর পৌরশহরের মোহনপুর ওয়ার্ডের আবুল কালামের ছেলে ড্রাইভার সেলিম ওরফে বাগান সেলিম এবং ৬নং সদর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মৃত তৈয়ব আলীর(মাদক কারবারি) ছোট ভাই মাদক ব্যবসায়ী তরিকুলের রমরমা মাদক ব্যবসার তথ্য সংগ্রহকালে মুঠোফোনে দেখে নেওয়ার হুমকি ও মণিরামপুর থানা পুলিশকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে এ দুই মাদক কারবারি।
মুঠোফোনের হুমকিতে মাদক কারবারি মণিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন দেবিদাশপুর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর(মাদক ব্যবসায়ী) ভাই এলাকার ঘোষিত মাদক সম্রাট তরিকুল ইসলাম নিজেকে অধিক ক্ষমতাধর দাবী করে বলে,”সাংবাদিক কতো দেখলাম,আয় আমার এলাকায় দেখাবানে কি করতে হয়” থানা পুলিশ এই তরিকুলের কিছুই করতে পারবে না”। এ ছাড়াও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। অথচ,এই চিহৃত মাদক সম্রাট তরিকুলের বিরুদ্ধে তথ্য আছে, পার্শ্ববর্তী হাকোবা গ্রামের পশ্বিম পাড়ার ভ্যানচালক রাজু হোসেন সহ ৫/৭জন সোলজার দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ হতে মণিরামপুর সরকারি কলেজ মোড় পর্যন্ত কয়েকটি পয়েন্টে দেদারসে চালিয়ে আসছে মাদকের রম-রমা বানিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তরিকুলের মৃত ভাই তৈয়ব আলী এলাকায় মাদক (গাঁজা,ইয়াবা) বিক্রি করতো। সম্প্রতি তৈয়ব আলীর মৃত্যুর পর হতে ভাইয়ের সে ব্যবসাকে হাতেখড়ি হিসাবে নিজের করে স্থানীয় কয়েকজনের প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে মাদক কারবারি সিন্ডিকেটের সম্রাট হয়ে তৈরি করেছে এলাকা ভিত্তিক মাদকের রাজ্য।
কিন্তু বাস্তবে এই তরিকুল গায়ে সাদা পান্জাবী মাথায় টুপি পরে থাকায় তার অন্ধকার জগতের চেহারা দেখা যায়না। এমনকি নিজে কোন কাস্টমারের সাথে লেনদেন করেন না বলে এতদিন আড়ালেই থেকে গেছে। সন্দেহ বসত তরিকুলের এক সোলজার রাজু হোসনকে মুঠোফোনে কল করলে সে লেনদেনে দেখা করতে রাজি হয়েও তরিকুলের নিষেধাজ্ঞায় আর দেখা করেনি। পরবর্তীতে রাজু মুঠোফোন বন্ধ করে রাখে, এমনই তথ্য রেকর্ড আছে এ অনুসন্ধানী টিমের কাছে।
মণিরামপুর পৌরশহরের স্বক্রিয় মাদক সিন্ডিকেটের আরেক সম্রাট ড্রাইভার সেলিম ওরফে বাগানে সেলিম। এ মাদক কারবারি এতটাই ক্ষমতাধর যে,বিগত কয়েকদিন আগেও তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলে সে স্ব গৌরবে বলে বেড়াচ্ছে,সাংবাদিক পুলিশ আমি সাথে নিয়ে ঘুরি।কতোবার জেল খাটলাম আর কতো পত্রিকায় ছবি হলাম! আমি সেলিম সেই খোকনের বাগানেই বসে আছি। এসব এক দুই টাকার সাংবাদিকের কাজ না,এ খেলা বড় বড় রাঘব-বোয়ালদের।
তথ্য সূত্র বলছে, পৌরশহরের মোহনপুর ওয়ার্ডের হরিহর নদীর গা ঘেঁষে চারিদিকে ঘন বাগান,তিন দিকে প্রবেশ পথ থাকায় খোকনের দেবদার বাগানে বসে সোলজার রনি হোসেন সহ কয়েক জনকে দিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় অজানা কোন ক্ষমতাবলে নির্বিঘ্নে ২৪ ঘন্টা চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা মাদকের হাট।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ,ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে স্থানীয় আ’লীগের কয়েকজন নেতাদের সহযোগিতায় মাদক কারবারে সম্পৃক্ত হয় সেলিম।পরবর্তীতে ড্রাইভার পেশাকে নামমাত্র রেখে সে থেকেই চালিয়ে যাচ্ছে তার মাদকের আগ্রাসন। সময় পরিবর্তনের সাথে সেলিমের ব্যবসার পরিসর বেড়েছে আর দলীয় ক্ষমতার পরিবর্তনে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন করে যুব সমাজের উপর সেলিম তার মাদকের ভয়াল আগ্রাসন আরো বাড়িয়েছে।
এ দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে যশোর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও মণিরামপুর থানায় একাধিক মামলা এবং অভিযোগ আছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখিত মাদক কারবারি সহ মণিরামপুরে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এ সমস্ত অভিযোগ উঠেছে,এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), ইমদাদুল হক।



