
ইমরান হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি :
সাহিত্যের অমর কবি ও আধুনিক বাংলা কাব্যের পথিকৃৎ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের কেশবপুরে তাঁর জন্মভূমি সাগরদাঁড়ীতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টায় সাগরদাঁড়ী মধুপল্লীতে এ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এ উপলক্ষে সাহিত্য আলোচনা, প্রবন্ধ উপস্থাপন, কুইজ প্রতিযোগিতা, কেক কাটা ও স্মারক গ্রন্থ ‘সনেট’-এর মোড়ক উন্মোচনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সাগরদাঁড়ী মধুপল্লীতে মহাকবির স্মৃতিভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে মহাকবির ২০২তম জন্মজয়ন্তী স্মরণীয় করে রাখতে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে পাঁচজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রচনা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে মহাকবির সাহিত্যচর্চা ও চিন্তাধারার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা হয়।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বিমল কুমার কুণ্ডুর সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ আশেক হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মাসুম বিল্লাহ, যশোর সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোফাজ্জেল হোসেন, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান, যশোর জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস, বিশিষ্ট মধুসূদন গবেষক ও মধুসূদন একাডেমির পরিচালক কবি খসরু পারভেজ, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুকদেব রায়, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বুলবুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তনের মাধ্যমে কাব্যজগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
উল্লেখ্য, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জমিদার রাজনারায়ণ দত্ত এবং মাতা জাহ্নবী দেবী।
শৈশবে তিনি মাতা জাহ্নবী দেবী, শিক্ষক হরলাল রায় এবং সাগরদাঁড়ীর শেখপুরা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি লুৎফুল হকের নিকট বাংলা, ফারসি ও আরবি ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে কলকাতায় অবস্থানকালে ইউরোপীয় সাহিত্যসহ বিভিন্ন ভাষায় গভীর জ্ঞান অর্জন করেন।
মহাকবির অমর সাহিত্যকর্ম— মেঘনাদবধ কাব্য, বীরাঙ্গনা, ব্রজাঙ্গনা, তিলোত্তমা সম্ভব এবং বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুন কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।



