
কে এম ইদ্রিস আলী,ঝিকরগাছা প্রতিনিধি ঃ
নাতনিকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের ফারাসাতপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম এর পুত্র রাজমিস্ত্রী এনামুল সরদার (৫৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী, হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা ও অর্থ জোগানদাতা রবিউল ইসলাম মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে আটক হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুন রাত ৯টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফারাসাতপুর গ্রামের ইমামুল হোসেনকে মনিরামপুর থানাধীন স্মরণপুর গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে একদল সন্ত্রাসী চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নিশংসভাবে হত্যা করে। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, ভাগ্নীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে একদল যুবকের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনাটি ঘটেছে।
হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ইমামুল হোসেনকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মণিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
যার নম্বর ১১, তারিখ ৯/৬/২৬, ধারা ৩০২/৩৪ পিসি। উক্ত মামলায় ফারাসাতপুর গ্রামের ইমামুল সরদার এর ছেলে হুসাইন (২২) ও রাকিব (২০), মফিজুর সরদারের ছেলে রাব্বি (২২), আফজাল সরদারের ছেলে চঞ্চল (৩২), আবুল সরদারের ছেলে সাকিব (২০) ও আরিফ (২৭), খায়রুল সরদারের ছেলে মেহেদী (২৫), লিটন সরদারের ছেলে সিয়াম (১৯), হাবিবুর এর ছেলে ইউনুস (২৪), রফিকুল এর ছেলে মিঠু (২৪), শওকত সরদারের ছেলে রবিউল(৪৫)এবংঅজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান হাজরা বলেন, উক্ত হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড রবিউল ইসলাম হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পরপরই ঐ রাতেই মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ৯ জুন সকাল সাড়ে ৬টার ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। অন্যদিকে ঐদিনই আসামিদের নামে মামলা রুজু হয় এবং দেশের বিমানবন্দর গুলোতে আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের সাথে যোগাযোগ করলে মালয়েশিয়ার পুলিশ রবিউল ইসলামকে কুয়ালালামপুরের শিলংগর এলাকায় অবস্থিত রেস্টুরেন্ট আল জাজ থেকে ১০ জুন বেলা ১২টার সময় গ্রেফতার করে। বর্তমানে সে মালয়েশিয়া জেলখানায় আটক আছে। তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে তিনি জানান।
এ দিকে মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ বলেন, হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার সংবাদ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১ নম্বর আসামি হুসাইনকে গ্রেফতার করে। আদালতে হুসাইনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি অনুযায়ী বাকী আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত আছে।



