Monday, July 27, 2026

সুন্দরবনে দুই মাসের জন্য কাঁকড়া শি’কার নি”ষিদ্ধ

Date:

Share post:

আশিক বিশ্বাস, মোংলা প্রতিনিধি:

সুন্দরবনের নদী ও খালে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসের জন্য কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। নতুন বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত জানায় বন বিভাগ।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস সুন্দরবনের কাঁকড়ার প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় শিলা কাঁকড়াসহ মোট ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা কাঁকড়া জন্ম নেওয়ার এই সংবেদনশীল সময়ে শিকার বন্ধ রাখার মাধ্যমে কাঁকড়ার বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন রাখাই এ নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য।
বন বিভাগ জানায়, দেশে কাঁকড়ার চাহিদা তুলনামূলক কম হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জীবন্ত কাঁকড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, চীন, হংকং ও মালয়েশিয়ায় কাঁকড়া রফতানি শুরু হয়। বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা মেটানো এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিবছরের মতো এবারও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার জলভাগ—যা মোট আয়তনের প্রায় ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ। এই জলভাগে রয়েছে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া। প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ৫৯ দিনের জন্য জেলেদের কাঁকড়া ধরার অনুমতি স্থগিত রাখা হয়েছে।

তবে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু চক্র নানা কৌশলে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাঁকড়া শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের দাবি, বন বিভাগের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের সহযোগিতায় এসব চক্র সক্রিয় রয়েছে। এতে সাধারণ জেলেরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন এবং নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, এভাবে কাঁকড়া শিকার চলতে থাকলে সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী এবং পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন,
“জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁকড়া ডিম পাড়ে। এ সময় ডিমওয়ালা কাঁকড়াগুলো দুর্বল ও ক্ষুধার্ত থাকায় সহজেই ধরা পড়ে। এই সময় শিকার বন্ধ রাখা গেলে পরবর্তী বছরে কাঁকড়ার উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

তাঁরা আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে। কেউ আইন অমান্য করলে বন আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সম্পর্কিত নিবন্ধ

কুয়াদা বাজুয়াডাঙ্গা ওয়ার্ড বিএনপির মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে মতবিনিময়

মোঃ ওয়াজেদ আলী | স্টাফ রিপোর্টার: যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে...

নড়াইলে কালিয়া দেওয়াডাঙ্গা গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে যুবকের ম”রদে’হ উ”দ্ধার

সাজ্জাদ তুহিন নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়ায় নিজ বসতঘর থেকে হাসুম শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার...

পাইকগাছায় অ’বাধে কপোতাক্ষ নদের চর দ”খলের অ”ভিযোগ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার শিববাটি গ্রামসংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের জেগে ওঠা চর অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে রাজ্জাক...

নড়াইলে চার বছরের শিশুকে ব”লাৎ’কারের অ”ভিযোগে  কিশোর গ্রে”প্তার

সাজ্জাদ তুহিন নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলে চার বছরের শিশুকে পার্শ্ববর্তী বাগানে নিয়ে বলাৎকারের অভিযোগে প্রতিবেশী কিশোর কে গ্রেপ্তার করেছে...