
ওয়াজেদ আলী, স্টাফ রিপোর্টার:
যশোর সদর উপজেলার কুয়াদা বাতানবাড়ী আঞ্চলিক মহাশ্মশানে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্র শ্মশানের স্টোর রুমের তালা ভেঙে মন্দিরের মূল্যবান পূজা সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। ধর্মীয় উপাসনালয়ে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শ্মশান কমিটি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের আঁধারে চোরচক্র কুয়াদা বাতানবাড়ী আঞ্চলিক মহাশ্মশানের স্টোর রুমের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর মন্দিরে সংরক্ষিত মূল্যবান পিতল ও কাঁসার সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়।
চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে— পিতলের বিশালাকার ঘণ্টা, প্রদীপ পঞ্চ, গেলি, বাবুল বাটি, কাঁসার বাটি, শঙ্খ, বালতি, ডেক-কড়াই ও পাতিলসহ পুজোর প্রায় সব সরঞ্জাম। এসব সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
মাদকের মরণছোবলে বাড়ছে অপরাধ
চুরির ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, কুয়াদা এলাকায় বর্তমানে তাড়ি, গাঁজা ও ইয়াবার মতো মরণনেশা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হাত বাড়ালেই এসব মাদক পাওয়া যাচ্ছে, যার কবলে পড়ছে তরুণ প্রজন্ম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, এলাকায় মাদকের রমরমা কারবার চলায় মাদকাসক্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। নেশার টাকার জোগান দিতে এসব মাদকাসক্ত এখন ধর্মীয় উপাসনালয়েও হানা দিচ্ছে। মাদক নির্মূল না হলে সমাজ ও জানমালের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন পুলিশের
চুরির খবর পেয়ে শুক্রবার কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই আশরাফ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মাসুদুর রহমান শামীম, ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলা এবং ফারুক হোসেন।
এছাড়া শ্মশান কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি রাম পাল, মিন্টু বিট, আনন্দ সাহা, বাবলু সাহা, মধু দত্ত, তপন দত্ত, স্টোর কিপার রীতিকা সানা, সুপ্রিয়া দাস ও পারুল সানাসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
প্রশাসনের কাছে কঠোর ব্যবস্থা দাবি
মহাশ্মশান পূজা কমিটির সভাপতি রাম পাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ধর্মীয় উপাসনালয়ে চুরির দুঃসাহস যারা দেখিয়েছে, তারা ক্ষমার অযোগ্য। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে আমরা থানায় মামলা দায়ের করতে যাচ্ছি।
প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি— দ্রুত প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এবং একইসাথে এলাকার মাদকের আখড়াগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



