
এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের(ইসি) নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন সোমবার ২৯শে ডিসেম্বর যশোর জেলা প্রশাসক এবং মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে সংসদীয় আসন যশোর ৫ (মণিরামপুর) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্য একজন স্বতন্ত্র সহ বিএনপি এবং জামায়াতের তিন হাইভোল্টেজ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র জমা হয়েছে।
সোমবার সকাল হতেই মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় চত্বরে লোকসমাগম ছিলো একটু বেশি।সময়ের সাথে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে স্ব স্ব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্তিতির বিশেষ কারন নির্বাচনী প্রার্থীদের কাঙ্ক্ষিত মনোনয়ন পত্র জমার সময় শেষ হবে।
পূর্বঘোষিত সূচিতে বিড়ম্বনা গতকাল(রবিবার) মণিরামপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় পতিত হয়ে মৃত্যু বরন করা দলীয় নেতা মোঃ শরিফুল ইসলামের জানাযার নামাজ শেষে দুপুরে কালো গাড়ীতে চড়ে মণিরামপুর উপজেলা সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক এরিয়ায় প্রবেশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এড গাজী এনামুল হক।
আনুমানিক বেলা ৩টা ২০মিঃ এর দিকে দাড়িপাল্লা প্রতীকের একক প্রার্থী এড গাজী এনামুল হকের উপস্থিতিতে উপজেলা জামায়াতের এক প্রতিনিধি দল মনোনয়ন পত্র জমা দেন বলে এ তথ্য নিশ্বিত করেছেন মণিরামপুর উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন।
পরপরই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে এম ইকবাল হোসেন সমার্থিত নেতাকর্মীদের বিশাল বহর উপজেলা চত্বরে প্রবেশ করে।
শহীদ মিনার চত্বরে জনতার বহর রেখে মোঃ আলী হোসেনের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল মনোনয়ন পত্র জমা দেন। শারীরিক অসুস্থতার কারনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম ইকবাল হোসেন স্ব শরীরে পারেননি জানিয়ে শহীদ ইকবাল হোসেন’কে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আগামি নির্বাচনে জয়ী করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে বলে এ সময় সাংবাদিকদের জানান মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া প্রতিনিধি দল। বিএনপির দলীয় প্রতীক দিয়ে আবার প্রত্যাহার করাতে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করে তারেক রহমান সহ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন উপজেলা বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান মণিরামপুর উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এ দুই প্রার্থী ছাড়া আর কোন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দেননি বলে জানালেও একই সময়ে যশোর জেলা প্রশাসক (রিটার্নিং কর্মকর্তা) কার্যালয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাস স্ব শরীরে প্রতিনিধি দল মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা যায়।
যশোর-৫ আসন মণিরামপুরে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাস সাংবাদিকদের এক স্বাক্ষাতকারে এ আসন থেকে জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।মণিরামপুর রিটার্নিং কর্মকর্তা থাকা সত্বেও কেনো জেলা পর্যায়ে মনোনয়ন পত্র জমা দেন এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান,২০১৮ সালেও জেলায় জমা দেওয়া হয়েছিলো। স্বাভাবিক জেলা হতেই সকল ধরনের কার্যক্রম করা হয়। তবে নির্বাচন জরীপের বিশেষ টিমের কাছে তথ্য আছে,জোট শরীকের বরাদ্দের জটিলতায় বিএনপির মণিরামপুর উপজেলার দূর্দীনে কার্যালয় খুলে রাখা ত্যাগী নেতা এম ইকবাল হোসেনকে মনোনীত করেও প্রত্যাহার করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাস’কে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ার পর হতে ক্ষোভে ফুসছে বিএনপির সম্মুখসারীর নেতা ও এম ইকবাল হোসেনের সমার্থিতরা। দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে উদ্বেগ – উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।এ নিয়ে কোন ধরনের কোন চাপে আছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাস বলেন,কোন ধরনের চাপে নাই।
আমি বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ৮৯ যশোর -৫ মণিরামপুর আসনে যশোর জেলা ডিসি অফিসে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছি এ সময় আমার সাথে উপজেলা ও পৌর জমিয়তের নেতৃবৃন্দরাও ছিলো।
এদিকে গত কয়েকদিনের টানা বিক্ষোভে মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মণিরামপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণার পর ২৮ ডিসেম্বর মণিরামপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাস’কে সরাসরি অবাঞ্ছিত ঘোষণার পর হতে এ পর্যন্ত উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে আকার ধারন করেছে।



