
মোঃ ওয়াজেদ আলী, স্টাফ রিপোর্টার:
যশোর সদর উপজেলার সতীঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব বিথীকা পাল-এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অসদাচরণ ও অযোগ্যতার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সহকারী শিক্ষক, কর্মচারী অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর উক্ত বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই প্রধান শিক্ষক বিঁথীকা পাল নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের প্রতি অমনোযোগিতা, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করার মতো অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষকরা। এতে করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক একজন মস্তিষ্ক বিকৃত, মানসিক ভারসাম্যহীন অমনোযোগী। এবং তিনি মাঝে মাঝে সহকারী শিক্ষক ও এমএলএসএস কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে থাকেন এবং অযথা গালিগালাজ করেন। এমনকি কিছু শিক্ষককে অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হয়েছে, যা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এর ফলে অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
গত বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের দিন এক শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের আচরণে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পিটিএ কমিটি, এসএমসি কমিটি ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা দাবি করেন, প্রধান শিক্ষক বিথীকা পালের পূর্বের কর্মস্থলেও একই ধরনের অভিযোগ ছিল এবং তার বিরুদ্ধে নৈতিবাচক রেকর্ড রয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর ভাষ্য, এ ধরনের অযোগ্য ও অসদাচরণকারী প্রধান শিক্ষক এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।
এ ঘটনায় সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ মনিরুজামান, সহকারী শিক্ষক পিনজিরা খাতুন, শ্রাবণী বিশ্বাস, অনন্য অর্মি সাহা, শান্তা ইসলাম, এমএলএসএস বুদ্ধদেবসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রায় ৮০ জন এলাকাবাসী লিখিতভাবে স্বাক্ষর করেছেন।
অভিযোগকারীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রধান শিক্ষককে অপসারণ করে একজন যোগ্য ও দক্ষ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। এ ঘটনার বিষয় উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার তৌহিদুর রহমান এর নিকট একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।



