
যশোর জেলা প্রতিনিধি :
যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে আপন চাচার বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে সি আর–৭০/২৬ নম্বরে।
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি একজন সহজ–সরল গ্রামবাসী এবং আসামি তার আপন চাচা। বাদীর দাদা মরহুম আছির উদ্দীন সরদার জীবদ্দশায় যশোর জেলার কেশবপুর থানাধীন ২৮ নম্বর ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজার ১০৫৫ নম্বর খতিয়ানের মোট ৫ একর ৫ শতক জমি তার চার ছেলের মধ্যে এওয়াজসূত্রে বণ্টন করে দেন।
বাদীর পিতা মৃত্যুবরণ করার পর এবং বাদী বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় সরল বিশ্বাসে তিনি তার প্রাপ্য জমি চাচাকে বর্গা ও দেখাশোনার জন্য মৌখিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেন। অভিযোগে বলা হয়, সেই সুযোগে আসামি বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে বাদীর অংশের ৫ শতাংশ জমি বাদীকে না জানিয়ে মো. হাবিবুর রহমানের কাছে ৭ লাখ ৯১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। দলিল নম্বর ৯৪১ অনুযায়ী ক্রেতাকে জমির দখলও বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গোপন সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরে বাদী কেশবপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের নকল সংগ্রহ করে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হন।
এজাহার অনুযায়ী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে গত ২৫ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামির কাছে জমির হিস্যা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বললে আসামি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৬ ও ৫০৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
মামলার তপশীল অনুযায়ী, যশোর জেলার কেশবপুর থানাধীন ২৮ নম্বর ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজার ১০৫৫ নম্বর খতিয়ানের ৩৩৬, ২৭৬৮ ও ৩৯২ নম্বর দাগের মোট ৯ শতক জমির মধ্যে বিক্রয়কৃত ৫ শতাংশ জমি নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়।
বাদী আদালতের কাছে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আবুবক্কর সিদ্দিকের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।



