
মণিরামপুর প্রতিনিধিঃ
একদিন না দুই দিন নই! দিনে-রাতে যখন খুশি তখন ইচ্ছা মতো বিভিন্ন অংকের অর্থ নিজের প্রয়োজনে দোকানের ক্যাশ ড্র হতে নিজের পকেটে নিয়ে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশেই জমি কিনে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মান করেছেন বাড়ি। বাড়ির সাথেই বসিয়েছে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হাতেনাতে ধরা পড়ে আবার লোক লজ্জার ভয়ে চুরি করা অর্থ থেকে ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে ধীরে বাকি অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাসের পর এখন আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে টাকা দিবেনা বলে জানান দিচ্ছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী তার পুঁজি হারিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও দেখা চোখে চুরি হওয়া টাকা ফেরত না পেয়ে হতাশায় দিন পার করছে।
এ যেনো নিজে রক্ষক হয়ে ভক্ষণ করেছে তারই রুটিরুজি হওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ।
উল্লেখিত ঘঠনাটি ঘঠেছে যশোরের মণিরামপুর বাজারের ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর দোকান বিদ্যুৎ প্রবাহ নামক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে।
অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ প্রবাহের মালিক উপজেলার জয়নগর গ্রামের আনোয়ার হোসেন তার ব্যবসা পরিচালনার জন্য অভিযুক্ত চালকিডাংগা বাজারস্থ্য জৈনক হাসেম আলী’কে (৫০) ৩০ বছর আগে দোকানে নিয়োগ করে। তার ৫ বছর পরই ব্যবসা বিনিয়োগ অর্থের হিসাব মেলাতে জটিলতা দেখা দিলে সন্দেহ বসত হাসেম আলীর বিরুদ্ধে নগদ অর্থ চুরির দায়ে শালিস আয়োজন করলে পবিত্র কুরআন শরীফ হাতে সকলের সম্মুখে অস্বীকার করলে আনোয়ার হোসেন বিশ্বাস করে পুনরায় কাজে বহাল রাখে। এরপর ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়েও আবারও একই অভিযোগ উঠলে সে কুরআন শরীফ স্পর্শ করে বলতে পারে চুরি করিনি সে মর্মে স্বাভাবিক পরিবেশে বহাল থাকে। কিন্তু চোরের যে কোন ধর্ম নাই তারই উধাহরনে আবার চুরির ধারাবাহিকতা প্রমানিত হলে লোকলজ্জার ভয়ে নিজে গত ৫ বছর ধরে ক্যাশবক্স হতে টাকা নিয়ে আসছে বলে স্বীকার করেন। শালিসে তখন ক্ষতিগ্রস্তের অর্থের পরিমান জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ রাতুল হোসেন ১,৬০,০০০(এক লক্ষ ষাট হাজার) টাকার হিসাবের বিপরীতে ১,৪০,০০(এক লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা অভিযুক্ত হাসেম আলী ফেরত দিয়ে সময় চাইলে রাতুল একমাস সময় দিয়ে তাকে দোকান হতে বিতাড়িত করে। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ প্রবাহের মালিক আনোয়ার হোসেনের হাতেপায়ে ধরে আবারও দোকানে বহাল করে তবে রাতুল প্রমান রাখতে ক্যাশ বরাবর সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে রাখে।যা হাসেম আলীর অজানা ছিলো।
সিসি ক্যামেরার রেকর্ড মোতাবেক,প্রতিদিনই বিভিন্ন অংকের টাকা ক্যাশ হতে নিয়ে নিজের পকেটে কৌশলে নিয়ে চলেছে। পরে আবারও চুরির অভিযোগ উঠলে তাকে কাজ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়ে চুরি করা অর্থ ফেরত চাইলে উল্টো রাতুলকে অভিযুক্ত হাসেম আলী টাকা দিবেনা বলে জানিয়ে বলে দেন,তার জামায় একজন সেনা সদস্য। কিছু করতে আসলে তাকে দিয়ে ব্যবস্থা নিবে। এ বিষয়ে সর্বশেষ আনোয়ারের ছেলে বিদ্যুৎ প্রবাহের বর্তমান মালিক মোঃ রাতুল হোসেন বাদী হয়ে তথ্য প্রমান সহকারে মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও ক্ষতিগ্রস্ত রাতুল এখনো আছেন ধোঁয়াশায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসেম আলীর এলাকা চালকিডাংগায় গেলে সর্বপ্রথম জানা যায়, বিদ্যুৎ প্রবাহের মালিক হাসেম আলী বলে জানে গ্রামবাসী। হাসেম আলীর বাড়ির আগে একটি চায়ের দোকানদার নিজেও বলেন,আমরা জানি ঐ দোকানটায় হাসেম চাচার। খোজ নিতে হাসেম আলীর বাড়িতে গেলে দেখা যায়,এক সময় যার কিছুই ছিলোনা এখন যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের চালকিডাংগার প্রধান সড়কের সাথে ১৪ শতক জমি কিনে তার উপরই হাকিয়েছে আলিশান বাড়ি। তার বাড়িতে বিশাল গরুর খামার,মাঠে করেছে মাছের ঘের।
এ সমস্ত সম্পদের উৎস জানতে চাইলে ও তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক চুরির অভিযোগ আছে বলা মাত্রয় হাসেম আলীর স্ত্রী চিল্লাপাল্লা শুরু করে। বলে এটা তাদের শীরর ঘামানো অর্থ দিয়ে করা। যে আসবে এ বিষয়ে কথা বলতে তাদের জামায় সেনা সদস্য! তাকে দিয়ে মোকাবেলা করাবে।
এ সময় অভিযুক্ত হাসেম আলী সিসি ডিবি ফুটেজ অস্বীকার করে বলে এক দু’দিন টাকা নিয়েছি ৪০/৫০ টাকা করে খরচের জন্য নিয়েছি।বাকিটা সব ভিডিও বানানো। তবে এ সমস্ত তথ্যের বেপারে ক্ষতিগ্রস্ত রাতুল হোসেন দাবি করেন,দীর্ঘদিন যাবত যে চুরি করেছে তার জন্য আমার বৃহৎ ব্যবসা সংকুচিত হয়ে আসছে। আমি এর একটা বিহিত চাই।



