শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০৮:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শিরোনাম:
শ্রীপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গরুসহ গোয়াল পুড়ে ছাই  দেশ বাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন  সংসদ সদস্য এ্যাড. বিপ্লব হাসান ফুলবাড়ীতে স্বপ্নসিঁড়ি সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালিত নড়াইলে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ মোংলায় ইউথ এ্যাম্বাসেডর এর মিটিং অনুষ্ঠিত শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান রাজনকে বিজয়ী সংবর্ধনা যশোরে অটোরিকশায় সন্তান প্রসব মণিরামপুরে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের স্বীকার হয়ে ৫ মাসের অন্তঃসত্তা- আটক ২ শপথ নিলেন শ্যামল সজীব শাবানা মোস্তফা ফিলান্সিং ইনস্টিটিউটে ওসি সুমন তালুকদারের মতবিনিময় হাসপাতালে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন ডুমুরিয়ায় ইউপি সদস্যকে মারপিট করে  ভিজিএফ-এর কার্ড  সহ টাকা ও চেন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ সবুজ পৃথিবী উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিউবওয়েল স্থাপন বঙ্গবন্ধু গোলকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ভালুকায় ভূমিসেবা বিষয়ক জনসচেতনতামূলক সভা ডুমুরিয়ায় কলেজ শিক্ষকের বাসা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার মনিরামপুরে অনলাইন জুয়াখেলায় ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোনসহ ৪ জুয়াড়ি আটক সমাজসেবায় সায়েদ আলীর সম্মাননা অর্জন শার্শায় ফেনসিডিলসহ আটক-১ নড়াইলে পুলিশ সদস্যের লিঙ্গ কাটল কে শার্শায় ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জ শ্রীপুর উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রাজন সহ ৩ সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণ  মণিরামপুরে ১২৮ টি ভুমিহীন পরিবারের হাতে তুলে দিলেন আশ্রয়ণ প্রকল্প(০২) এর ঘর খুলনায় সপ্তাহব্যাপী কোরবানির পশুর হাট উদ্বোধন শ্রীপুরে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলার শুভ উদ্বোধন মণিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত ওসি মনিরুজ্জামান নড়াইল পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই পরিবারের ৫জন কে পিটিয়ে জখম নড়াইলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত কেশবপুর কালী মন্দিরে চুরির ঘটনায় ডিবি পুলিশের হাতে আটক—১

মুহাঃ মোশাররফ হোসেনের বাস্তব জীবন নিয়ে লেখা চটি উপন্যাস “সাদা মনের মানুষ”

উপজেলা / জেলা-প্রতিনিধি / ৫৬ বার পড়া হয়েছে
সময় শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

চটি উপন্যাস

সাদা মনের মানুষ

মুহাঃ মোশাররফ হোসেন:

শরিফ খুব সহজ সরল সাদা-মাটা একটা মানুষ, সংসার জীবন থেকে গাছ লাগাতে ভাল বাসতো। শরিফের বড় ভাই নার্সারির চাষ করতো এবং বড় গাছও লাগাতো। শরিফ এবং বড় ভাই মিলে একসাথে থাকতো। শরিফরা ৪ভাই আর ৩বোন, শরিফ বাড়ির বাহিরে থেকে লেখা পড়া করে আর ২ ভাই (অর্থাৎ মেঝো এং সেজো ভাই) দেশের বাহিরে থাকে। বাড়িতে থাকে ছোট বোন, মা, বাবা, আর বড় ভাই/ভাবি এই নিয়ে সংসার। বড় ভাই সংসারের দায় দায়িত্ব নিয়ে চালাতো। এদের বাবা একজন গ্রামের সহজ সরল ধর্মীয় শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু চাকুরি শেষে বাড়িতে থাকতো, অবসারে বই লিখতো কিন্তু দুর্ভাগ্য রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায় আর অর্থনৈতিক সমাস্যার কারনে সামনের দিকে এগুতে পারে না, এবং সেখানেই লেখা-লেখির সমাপ্ত ঘটে। বড় ভাই নার্সারি এবং গাছ লাগিয়ে সংসার চালাতেন কিন্তু খুব কষ্টে দিন অতিবাহিত হতো। প্রায় সংসারে অশান্তি লেগে থাকতো। এদের ছোট বোনটা এবং শরিফ খুব কষ্ট করে লেখা পড়া করতো। শরিফ অবশেষে তার বোনের বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতো, অর্থাৎ ছোট বোন এবং শরিফের লেখা পড়ার খরচ যোগাতো তাদের এই বোন। এই বোন ছিলো তাদের বোনদের মধ্যে মেঝো এবং একটু প্রভাবশালি, বোনাইটাও খুব ভাল ছিলো, তাদের সংসারের প্রায় সব কিছু দেখা শুনা করতো, শরিফের বোনাই হঠাৎ ব্যাবসায়িক ভাবে ধরা খেয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে গেলে দেশের বাহিরে পাড়ি দেই। সেখান থেকেও সে শরিফদের সহযোগিতা করতো। মেঝো ভাই বিদেশে কাজ-কর্ম তেমন করে না, যার কারনে সেজো জন লেখা-পড়া বাদ দিয়ে মনের কষ্ট নিয়ে বিদেশ চলে যায়। কিন্তু হঠাৎ সংবাদ আসে মেঝো ভাই বিদেশ থেকে খালি হাতে বাড়ি আসছে, আর এই বাড়ি আসার কথা শুনেই বড় ভাই, কোন এক কাল বৈশাখি ঝড়ের মত আঘাত করে নার্সারি বাগান এর বড় একটা অংশ নিয়ে পৃথক হয়ে যায়। শরিফের কাঁধে পড়ে যায় সংসারের চাপ এবং বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে সংসার চালিয়ে আর লেখা পড়া করতে পারেনি। কিন্তু গাছ লাগানো তার বড় ভায়ের কাছ থেকে শিক্ষা, সেই থেকে শরিফ গাছ লাগায় আর সংসার চালায়। এর পরে মেঝো ভাইকে বিয়ে দেয় শরিফ এবং মেঝো বোন মিলে, এবার আবার বেড়ে যায় সংসারের খরচ, কিছুদিন যেতে না যেতেই ছোট বোনের বিয়ের কথা আসে এবং বিয়েও হয়ে যায়, সেখানেও অনেক খরচ হয় এইভাবে চলতে থাকে সংসার জীবন। এর পরে বাবাও অনেকটা অসুস্থ্য হয়ে পড়ে তার পিছনেও অনেক টাকা খরচ হয়, সেজো ভাই এবং মেঝো বোনটা সহযোগিতা করে, কিন্তু তাতে শরিফের হাত-পা বাধা, নিজ ইচ্ছায় কিছু করতে পারে না, তাই সিদ্ধান্ত নেই স্বাধীন জীবনে ফিরে যেতে, স্বাধীন ভাবে কিছু করতে। তাই শরিফ সিদ্ধান্ত নেই ব্যাবসা করবে এবং ব্যাবসা করতে মেঝো বোন ও সেজোভাই এর সহযোগিতা নিয়ে একটা ব্যাবসা শুরু করে, পাশা-পাশি গাছ ও লাগায়, গাছ লাগানোটা শরিফের নেশা। এর পরে শরিফের বাবা অনেক অসুস্থ্য হয়ে পড়ে এবং শরিফ ও শরিফের মেঝো বোন বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে, অনেক চিকিৎসার পরেও বাবাকে আর বাঁচাতে পারেনাই, বাবা মৃত্যু বরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রজিউন)। শরিফ ব্যাবসা করতে থাকে এবং কিছুদিন যাওয়ার পরে হঠাৎ শরিফের বিয়ের কথা শুরু হয় এবং শরিফ বিয়েও করে, সংসারে আরেক ধাপ খরচ বেড়ে যায়। শরিফের আছে ঐ ব্যাবসা আর মাঠে কিছু চাষি জমি। জমি চাষ করে এবং গাছ ও লাগায়, গাছ বাঁচুক আর না বাঁচুক গাছ লাগাতে শরিফ পছন্দ করে তাই লাগায়। সংসারে খরচ বেড়ে যায়, খরচ অনুযায়ী ইনকাম হয় না কি করবে শরিফ ভেবে পায় না কুল, আবার অনেকদিন ব্যাবসা করার পরে ব্যাবসাও ভাল না হওয়ার কারনে মহাজনের কাছে অনেক টাকা ঋন হয়ে যায় এবং মার্কেটে অনেক টাকা পড়ে থাকে অনাদায় হিসেবে। শরিফ ব্যাবসা শেষ পর্যন্ত আর ধরে রাখতে না পেরে ব্যাবসা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই এবং এক পর্যায় ব্যাবসা বন্ধ ও করে দেয়, এবং হয়ে যায় বেকারত্ব জীবন, আর এই ব্যাকারত্ব জীবন যে কতো কঠিন সেটা ব্যাবসা বন্ধ হওয়ার পরে শরিফ হাড়ে-হাড়ে টের পেতে থাকে। শরিফ কি করবে এবার আবার চিন্তায় পড়ে গেলো কিভাবে সংসার চালাবে? পরবর্তীতে শরিফ তার বড় ভায়ের সাথে পরামর্শ করে শরিফের বড় ভায়ের শিক্ষানুযায়ী কিছু গাছ লাগানো ছিলো, সেই গাছ থেকে কিছু গাছ বিক্রয় করে বাড়ির পাশে একটা মুদির দোকান দেয়, সেখানে তার ব্যাবসা খুব ভাল না হলেও মোটামুটি চলতো, কিছুদিন ব্যাবসা চালানোর পাশা-পাশি আবার গাছ ও লাগাতো। কিন্তু শরিফ তার সেজো ভায়ের কথায় মুদি ব্যাবসা বাদ দিয়ে চলে যায় শরিফের বোনায়ের এক ব্যাবসায়, সেই ব্যাবসার ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে, সাথে গরু চাষ এবং গাছ লাগানো নেশাটা শরিফের থেকে যায়। শরিফের সেজো ভাই বিদেশ থেকে বাড়ি আসে এবং সেও বিয়ে করে, এবং সে সংসার থেকে আলাদা হয়ে থাকে, কিন্তু তার ইনকামের টাকার ভাগ দেই নাই, কারন সেই যখন বিদেশ যায় সংসার থেকে কোন সহযোগিতা দিতে পারে নাই এটাই ছিলো আসল কারন। শরিফ বোনায়ের ব্যাবসার দায়িত্বে আছে, পাশা-পাশি গরু চাষ এবং প্রতি বছরে একটা হলেও গাছ লাগায়। শরিফের এবার স্ত্রী, ১ পুত্র এবং ১ কন্যা সাথে আছে মা, সংসার খরচ দিন-দিন বাড়া ছাড়া কমছে না। এরই মধ্যে শরিফের মা আবার খুব অসুস্থ্য হয়ে পড়ে, মায়ের পিছনে অনেক টাকা খরচ হয়, তবে এর কিছু অংশ খরচ শরিফের সেজো ভাই দেই, তার জন্য শরিফ পেরে ওঠে, নইলে শরিফের ইনকাম অনুযায়ী এতো খরচ যোগান দেওয়া কঠিন হয়ে যেতো। তবে খরচ দিলেতো আর দায়িত্ব পালন করা যায় না, ধৈর্য ধরা, সহ্য করা এর জন্য আলাদা মানুষিকতা, সবাই এটা পারেনা, যেটা শরিফ সহ্য করে। সংসারের পাশা-পাশি ভাই-বোন সবার দেখাশুনা এবং অসুস্থ্য মায়ের সেবা করা যেটার সৌভাগ্য টাকা থাকলেও সবার ভাগ্যে জোটেনা, সেটা হলো আত্বীয়-স্বজন এবং মায়ের সেবা, মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত, যেটা অর্জন করেছে শরিফ, এভাবে শরিফ স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, আত্বীয়-স্বজন আর অসুস্থ্য মাকে নিয়ে সংসার চালিয়ে যাচ্ছে, এর পাশা-পাশি সমাজিক ও গনমাধ্যম কাজ করে যায় শরিফ। আর সমাজের মানুষও অনেকটা শরিফকে ভাল বাসে, মানুষ যাকে ভাল বাসে আসমানের ফেরেস্তারাও তাকে ভালবাসে পাশা-পাশি আল্লহও সেই মানুষকে ভাল বাসে, এরই মাঝে শরিফ ভাল ভাবে দিন অতিবাহিত করে। শরিফ কিন্তু আত্বীয়-স্বজন এবং মানুষের খেদমত করতে অনেকটা ভাল বাসে, এভাবে চলতে থাকে শরিফের জীবন সংসার, আর শরিফ সংসার এর পাশা-পাশি গাছ লাগানো এখনও অব্যাহত রেখেছে। আজও প্রতি বছর কিছু না কিছু গাছ লাগায়, আসলে এটা শরিফের নেশায় পরিনত হয়ে গেছে। এখনও অবদি জায়গা কম থাকলে ও যেখানে জায়গা থাকে সেখানে শরিফ গাছ লাগিয়ে আসছে। আসলে মুল কথা হলো গাছ সকল প্রানীর অক্সিজেন এবং কার্বনডাই অক্সাইড যোগায় এবং এই গাছে যে ফল এবং ফুল হয়, আর মানুষ কিংবা পশু পাখি তাহা আহার করে এইটাই হলো সদকায়ে জারিয়া। গাছ সকল প্রানীর অক্সিজেন ও কার্বনডাই অক্সাইড যোগায়। আমাদের দেশে যদি এতো গাছ না থাকতো তাহলে বর্তমানে দেশে যে তাপদাহো এই তাপদাহো থেকে বেঁচে থাকা সকল প্রানীর খুবই কঠিন হয়ে পড়তো। আমরা এখান থেকে শিক্ষা নিই, যে মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্বীয়- স্বজন, এবং সমাজের অবহেলিত মানুষের সাথে ভাল ব্যাবহার করা ও এদের পাশে থাকা এবং প্রত্যেকে বেশি বেশি গাছ লাগিয়ে সকল প্রানীর অক্সিজেন ও কার্বনডাই অক্সাইড যোগান দিতে সহযোগিতা করা। আর গাছ প্রত্যেকটা প্রানীর অক্সিজেন ও কার্বনডাই অক্সাইড যোগানোর সহযোগিতা করে। গাছ হলো আল্লাহর এক প্রদত্ত নেয়ামত।(আমিন)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একাধিক নিউজ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: Content is protected !!