বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১০:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শিরোনাম:
ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক সফর যশোরে লোকসানে চামড়া বিক্রি করে ফিরে আসছেন ব্যবসায়ীরা পানিতে তলিয়ে আছে সুনামগঞ্জের অনেক এলাকা যশোরে প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড শ্রীনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে সাংবাদিকের উপর নৃশংস হামলা থানায় অভিযোগ  সিরাজগঞ্জ তাড়াশে মাংস ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে নারীসহ আহত ১০ মোটরসাইকেলের ধাক্কায় চালক ও বৃদ্ধা নিহত ঝিকরগাছায় মধ্যবিত্তদের মাঝে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণে ঈদ সুপার সপ কুরবানি কর মনের পশু টুংটাং শব্দে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকারেরা  ঈদে সড়কে ঘরমুখী মানুষের চাপ  গাজীপুরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সলঙ্গায় অজ্ঞাত ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরহী  এক যুবক নিহত খাগড়াছড়িতে শতাধিক ঔষধি ও ফলজ সহ বৃক্ষরোপণ করেন পুলিশ সুপার মুক্তা ধর পিপিএম (বার) ঘূর্ণিঝড়ের রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার পক্ষ থেকে নগদ অর্থ প্রদান বিআরটিএ অফিসের শত দালালের মাঝে একজন পরিশ্রমি ভালো মানুষ মো: কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখে মানববন্ধন কর্মসূচি উপজেলা বাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু নড়াইলে মাছের ঘেরে গোসল করতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু ডুমুরিয়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ  নড়াইলে সড়ক দূর্ঘটনায় যুবক নিহত সাতক্ষীরা-য় কৃষক দলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  শ্রীপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গরুসহ গোয়াল পুড়ে ছাই  দেশ বাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন  সংসদ সদস্য এ্যাড. বিপ্লব হাসান ফুলবাড়ীতে স্বপ্নসিঁড়ি সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালিত নড়াইলে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ মোংলায় ইউথ এ্যাম্বাসেডর এর মিটিং অনুষ্ঠিত শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান রাজনকে বিজয়ী সংবর্ধনা যশোরে অটোরিকশায় সন্তান প্রসব মণিরামপুরে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের স্বীকার হয়ে ৫ মাসের অন্তঃসত্তা- আটক ২ শপথ নিলেন শ্যামল সজীব শাবানা

গাজীপুরে নৌকা পরাজয়ের একাধিক কারণ 

উপজেলা / জেলা-প্রতিনিধি / ১৬ বার পড়া হয়েছে
সময় বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১০:০০ অপরাহ্ন

আলিফ আরিফা,গাজীপুর প্রতিনিধি:

নানা হিসেব-নিকেশ ও জল্পনা-কল্পনার পর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জিতে বিজয়ের হাসি হাসছেন স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী জায়েদা খাতুন। এই পদে হেভিওয়েট প্রার্থী মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে পরাজিত করে নগর ভবনের চাবি পেলেন তিনি। ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তি ইমেজ ও সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালবাসার কারণেই জায়েদা খাতুনের বিজয় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন তার আমজনতা।

পক্ষান্তরে আলোচনা চলছে নৌকা প্রার্থীর পরাজয় নিয়ে। নানা বিচার-বিশ্লেষণ আর আলাপ-আলোচনার মধ্যে মোটাদাগে উঠে আসছে আওয়ামীলীগের অন্তঃকোন্দল, দলীয় বিভাজন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের পাশাপাশি বিএনপি সমর্থক ভোটারদের বড় ভূমিকার কথা। শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ, আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী ও বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপে উঠে এসেছে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খানের পরাজয়ের নেপথ্যের বহু কারণ।

আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন- গাজীপুর মহানগরে আওয়ামীলীগের দলীয় বিভাজন আছে। দীর্ঘদিনেও ওই বিভাজন শেষ করা যায়নি। উল্টো এক পক্ষ অপরপক্ষকে ঘায়েল করতেই ব্যস্ত থাকতো অধিকাংশ সময়। এর রেশ পড়েছে এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। বিশেষ করে জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিস্কারের পর মহানগর আওয়ামীলীগ কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য পদধারী নেতাকে দল থেকে কেন বহিস্কার করা হবে না, এই মর্মে চিঠি ইস্যু করা হয়েছিল। গত ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের পরেও এ পর্যন্ত মহানগর কমিটি গঠন করতে না পারার বিষয়টিও আওয়ামীলীগের পরাজয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন অনেকে।

এমন অবস্থায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামীলীগের তৃণমূলের একটি অংশ জাহাঙ্গীরের পক্ষে চলে আসে। তারা ছদ্মবেশ ধারণ করে নৌকার ব্যাজ পড়লেও গোপনে জাহাঙ্গীরের মা জায়েদা খাতুনের পক্ষে কাজ করেছেন। এমন অভিযোগে নির্বাচনের প্রচারণার সময়ও দলের তিনজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে আটজন নেতা-কর্মীকে। এছাড়া পুলিশ দিয়ে আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, আওয়ামীলীগের প্রার্থীর পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল এই দলীয় কোন্দল ও বিভাজন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে- নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে নৌকার কর্মীদের আধিক্য থাকলেও দিনশেষে সেখানে জয়ী হয় সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুনের ঘড়ি প্রতীক। মূলত আওয়ামীলীগের অনেক নেতা-কর্মীই নৌকার লোক বেশে ভোট দেন জায়েদা খাতুনকে। ভোটের আগে অভিযোগ ওঠে, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারীরা যেন ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন, সেজন্য ভোটের এক সপ্তাহ আগে থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ও ঘরছাড়া করা হয় অনেককে। তবে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য জায়েদা খাতুনের ভোটার ও কর্মী সমর্থকরা কৌশল হিসেবে গলায় নৌকার ব্যাজ ও হাতে নৌকার ভোটার স্লিপ নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। আর এই কৌশলের কাছে হেরে যান আজমত উল্লা খান।

জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষের কতিপয় আওয়ামীলীগ নেতার মতে- নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েন। তারা নিশ্চিত ছিলেন চাপের মুখে জাহাঙ্গীর নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে যাবেন। তবে শেষ পর্যন্ত নানা চাপ থাকা সত্ত্বেও মাঠ ছাড়েননি জাহাঙ্গীর। এছাড়া ভোটারদের ওপরও নৌকার বাইরে ভোট না দিতে হুমকির অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। দলীয় মনোনয়নন পেলেই জয় নিশ্চিত এমন ধারণায় আত্মতুষ্টিতে ভুগতে থাকেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা। যার প্রভাব পড়ে ব্যালটে।

নগরের বাসিন্দাদের মতে- আওয়ামীলীগ প্রার্থী আজমত উল্লা খানের নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো পরিকল্পনার ছাপ ছিল না। মহানগরের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কাজে না লাগিয়ে কেন্দ্র ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতা-কর্মীদের নিয়ে আসা হয় নির্বাচনী প্রচারণার কাজে। বিচ্ছিন্নভাবে তারা প্রচার-প্রচারণা চালান। রাস্তা-ঘাটে দায়সারা প্রচারণা চালালেও ভোটারদের ঘরে পৌঁছায়নি নৌকার বার্তা। এতে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ৫৭টি ওয়ার্ডে দলের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী থাকায় তারা নিজেদের প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। অনেকেই বিএনপির ভোট পেতে নৌকার পক্ষে সরাসরি ভোট চাওয়া থেকে বিরত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডও আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

অনেকেই বলেন- একাই নানা পথসভায় বক্তব্য দিয়ে গেছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খান। তিনি জাহাঙ্গীর আলমের দুর্নীতি, নগর ভবনের দুর্নীতি নিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। এ নগরে সরকারের নেয়া নানা উন্নয়ন প্রকল্প তিনি ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। নগরীর উন্নয়ন নিয়ে তার ভাবনায় ছিল না কোনো পরিকল্পনার ছাপ, শুধু বিরোধী দল ও মতের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছেন। তার একই ধরনের বক্তব্যে নাখোশ ছিলেন নগরীর অনেক মানুষ। প্রচারণায় ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহারেও তিনি পিছিয়ে ছিলেন। তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের আকৃষ্ট করতেও কোনো ভূমিকা নিতে পারেননি আজমত উল্লা খান।

নারী প্রার্থী জায়েদা খাতুন প্রচারণায় নেমে আজমত উল্লা খানের এলাকা টঙ্গীতে প্রবেশ করে বারবার বাধার শিকার হয়েছেন। তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, কর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। এভাবে প্রচারণায় বাধা ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে ছিল। নন্দিত বাংলা সিনেমা ‘আম্মাজান’র শিরোনাম গান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান জাহাঙ্গীর আলম ও তার মা জায়েদা খাতুন। অনেকেই মনে করেন- এই গানে আবেগতাড়িত হয়েছেন অনেক ভোটার। বিশেষ করে নারীরা ও আবেগী ভোটাররা রায় দেন জায়েদা খাতুনের পক্ষে।

নগরের ভোটারদের মতে- সিটি করপোরেশনের মোট ভোটার প্রায় ১২ লাখ। এর অর্ধেকের বেশী ভোটারই নারী। প্রথমবারের মতো এই সিটিতে একজন বয়স্ক নারী মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ায় এবং ছেলের জন্য মায়ের সংগ্রামে আকৃষ্ট হন নারী ভোটাররা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একাধিক নিউজ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: Content is protected !!