শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শিরোনাম:
একমাত্র আওয়ামীলীগই স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের দল মেহের আফরোজ চুমকি এমপি রাজগঞ্জের ঝাঁপায় ঈদ পুণর্মিলনী অনুষ্ঠান ও বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত  সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত মোবাইল নং ১৪তম মালয়েশিয়া গিফটস ফেয়ার এ বাংলাদেশ-এর অংশগ্রহণে উপচে পড়া ভিড় স্টলে  শ্রীনগরে সাংবাদিকের উপর আঃলীগ নেতার হামলার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন কালিগঞ্জে শেখ হাসিনার আদর্শের সৈনিক হিসেবে দেশের তরে কাজ করবো মেহের আফরোজ চুমকি এমপি শ্রীপুরের প্রয়াত শিক্ষক কাজী ফয়জুর রহমানের স্মরণে শোকসভা ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক সফর যশোরে লোকসানে চামড়া বিক্রি করে ফিরে আসছেন ব্যবসায়ীরা পানিতে তলিয়ে আছে সুনামগঞ্জের অনেক এলাকা যশোরে প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড শ্রীনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে সাংবাদিকের উপর নৃশংস হামলা থানায় অভিযোগ  সিরাজগঞ্জ তাড়াশে মাংস ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে নারীসহ আহত ১০ মোটরসাইকেলের ধাক্কায় চালক ও বৃদ্ধা নিহত ঝিকরগাছায় মধ্যবিত্তদের মাঝে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণে ঈদ সুপার সপ কুরবানি কর মনের পশু টুংটাং শব্দে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকারেরা  ঈদে সড়কে ঘরমুখী মানুষের চাপ  গাজীপুরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সলঙ্গায় অজ্ঞাত ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরহী  এক যুবক নিহত খাগড়াছড়িতে শতাধিক ঔষধি ও ফলজ সহ বৃক্ষরোপণ করেন পুলিশ সুপার মুক্তা ধর পিপিএম (বার) ঘূর্ণিঝড়ের রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার পক্ষ থেকে নগদ অর্থ প্রদান বিআরটিএ অফিসের শত দালালের মাঝে একজন পরিশ্রমি ভালো মানুষ মো: কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখে মানববন্ধন কর্মসূচি উপজেলা বাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু নড়াইলে মাছের ঘেরে গোসল করতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু ডুমুরিয়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ  নড়াইলে সড়ক দূর্ঘটনায় যুবক নিহত সাতক্ষীরা-য় কৃষক দলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  শ্রীপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গরুসহ গোয়াল পুড়ে ছাই  দেশ বাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন  সংসদ সদস্য এ্যাড. বিপ্লব হাসান

এক যুগ ধরে শিকলে বন্দী জীবন-বিকাশ সরদারের

উপজেলা / জেলা-প্রতিনিধি / ২২ বার পড়া হয়েছে
সময় শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

সুমন হাসান,কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধি:

কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের কিনারে একটি বাবলাগাছ ও পায়ের সঙ্গে লাগানো শিকলই বিকাশ সরদারের প্রতিটি দিন–রাতের সঙ্গী। দিন-রাত একটি ত্রিপলের নিচে শিকলে বাঁধা অবস্থাতেই থাকতে হয় তাঁকে। ঝড়–বৃষ্টি হলে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়িতে। থামলেই আবার সেখানে। এভাবেই ১২ বছরের বেশি সময় ধরে চলছে ৪৬ বছরের বিকাশ সরদারের এই শিকল বন্দিজীবন।

শিকল খুলে দিলে মানুষকে বিরক্ত করেন, ঘরে ঢুকে আসবাব ভাঙেন তিনি। অনেক সময় এদিক-সেদিক চলে যান। ভাইয়ের এমন অস্বাভাবিক অবস্থা সামাল দিতে দিতে বেসামাল হয়ে পড়েছেন বোন রেখা সরকার। বাধ্য হয়ে তাই ছোট ভাইয়ের পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন। বাবা-মা বেঁচে না থাকায় বোন রেখা সরকার ও ভগ্নিপতি স্বপন সরকারের সংসারেই ঠাঁই পেয়েছেন মানসিক প্রতিবন্ধী বিকাশ।

খুলনার কয়রা উপজেলার কাশিরহাটখোলা থেকে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ ধরে হাজতখালী গ্রামের দিকে গেলে বেড়িবাঁধের পাশে দেখা মিলবে শিকলে বাঁধা বিকাশ সরদারের। তিনি কয়রার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের মৃত গৌর পদ সরদারের ছেলে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। মেধাবী ছাত্র ছিলেন। শান্তশিষ্ট ছেলে হিসেবে গ্রামের সবাই তাঁকে আদর করতেন। কিন্তু হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারান তিনি। ৩০ বছর ধরে মানসিক সমস্যা দেখা দিলেও পায়ে শিকল পড়েছে ১২ বছর ধরে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, কপোতাক্ষ নদের পাড়ে বেড়িবাঁধের ঢালে ত্রিপলের নিচে একটি বাবলাগাছের সঙ্গে পায়ে শিকল দিয়ে বাঁধা বিকাশ সরদার। খালি গায়ে একটি ময়লা লুঙ্গি পরে কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো শুয়ে-বসে সময় কাটাচ্ছেন। পাশে একটি গায়ে দেওয়ার কাঁথা এলোমেলো করে রাখা। সঙ্গে রয়েছে একটি গামলা ও পানির জগ। সেখানেই খাবার দেওয়া হয় তাঁকে। বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীরা বিকাশ সরদারের দিকে তাকিয়েও দেখছেন না। এটা হয়তো পথচারীদের কাছে প্রতিদিনের দৃশ্য, তাই খুব একটা গায়ে মাখছেন না কেউ। বিকাশ সরদারকে ডাকলেও সাড়া দিতে চান না। শুধু পাশের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীদের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন।

রেখা সরকার বলেন, ‘বাবা-মা মারা যাওয়ার পর ১৪ বছর ধরে এই ভাইকে টানছি। আমরাও গরিব মানুষ। যেটুকু সামর্থ্য ছিল, তা দিয়ে ভাইটাকে ডাক্তার-কবিরাজ দেখিয়েছি। তবে অর্থের অভাবে এখন ভালো কোনো চিকিৎসকের কাছে তাঁকে নিতে পারছি না। বাধ্য হয়ে দিন–রাত ভাইকে এভাবে বেড়িবাঁধের পাশে বেঁধে রাখা লাগে। প্রস্রাব–পায়খানাও ওই খানে করে। পরে আমি পরিষ্কার করে ফেলি।’ তিনি আরও বলেন, বিকাশ প্রতিবন্ধী ভাতা পান। তবে সরকারি সহায়তা কিংবা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের সহায়তায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে হয়তো তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।

বিকাশ সরদারের ভগ্নিপতি স্বপন সরকার বলেন, ‘বিকাশ অনেক মেধাবী ছিল। গ্রামের সবাই তাঁকে ভালো জানতো। কিন্তু হঠাৎ করে কী কারণে এমনটা হলো তা বলতে পারবো না। এলাকার ছোট ছেলেমেয়েরা ওকে দেখলে ভয় পায়। আবার ছেড়ে রাখলে এদিক-ওদিক চলে যায়। এই জন্যই তাঁকে আমাদের বেঁধে রাখতে হয়।এর আগে বিকাশকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টাকার অভাবে বেশি দিন চিকিৎসা করাতে পারেননি।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মমিনুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সত্যিই হৃদয়বিদারক। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। দ্রুতই বিকাশ সরদারের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একাধিক নিউজ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: Content is protected !!