
এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্রমশই যশোর-৫ মণিরামপুর আসনে বাড়ছে জটিলতা। ইসির প্রচারণায় বিধিনিষেধ থাকায় সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুক প্লাটফর্মে দেখা গেছে ব্যাপক নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। লাইক,পোস্ট, কমেন্টসে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে স্ব স্ব প্রার্থীর কর্মী সমার্থকরা সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, যশোরের মণিরামপুর কায়েমখোলা ওয়ার্ড মেম্বরের ছেলে মোঃ আবির হোসন সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম ইকবাল হোসেনের সমার্থনে এক ফেইসবুকে পোস্টে স্থানীয় জামায়ত কর্মী মোঃ মাহাবুর রহমানের করা মানহানিকর(প্রার্থীর) মন্তব্যে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে সর্বশেষ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে সেচ্চাসেবক দলের ইউনিয়ন নেতা আবির হোসেন।অবস্থা আশংকামুক্ত থাকলেও মাথার সিটিস্ক্যান করা লাগবে বলে জানান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক।
শুধু আহত নই আবিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মাহাবুর-আলিমের নেতৃত্বে ভাংচুর-লুটপাট উল্লেখ করে কয়েকজনের নামে মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে বলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মণিরামপুর থানা পুলিশ।
ঘঠনার সময় ১২ই জানুঃ সোমবার সন্ধা ৬টা ৪৫মিঃ দিকে জামায়াত কর্মী মাহাবুর তার বোনজামাই আলিম হোসেন সহ সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীর সমার্থকদের কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র সহকারে আতর্কিত এ হামলা করে। এ সময় উপস্থিত আবিরের বড় ভাইকে মারধর করেছে বলে জানান বড় ভাই সম্রাট হোসেন নিজেই।
ভিকটিমের উপর হামলার পরপরই সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুকে আবির তার আইডি হতে লাইভ ভিডিয়তে রক্তাক্ত শরীর প্রদর্শন করে এম ইকবাল হোসেনের সমার্থনের প্রতিদানে আজ রক্তাক্ত হতে হলো বলে নিজেই দাবী করেন। মুহূর্তে সে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পরবর্তীতে অভিযুক্ত মাহাবুর রহমান ছাড়া আর কোন জামায়াত কর্মী হামলার সময় না থাকায় দ্বীতিয়বার ভুক্তভোগী নিজেই আরেক ভিডিও শেয়ারে মাহাবুর -আলিম হোসেন ও তাদের বাকি সদস্যদের ধানের শীষের কর্মী উল্লেখ করে উপজেলা বিএনপির একাংশের কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী আবির স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএক্স-২ নং বেডে বসে বলেন,গত ১০ই ডিসেঃ এ বিষয়ে সিনিয়র নেতা তৈয়ব আলী মিমাংশা করে দিলেও মাহাবুর ও তার দলবল সময়-অসময়ে আমার দোকানের সামনে এসে হুমকি-ধমকি সহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক মানহানিকর মন্তব্য করে আসছিলো।
এ ঘঠনায় অভিযুক্ত আলিম হোসেন সম্পর্কে মাহাবুরের বোনজামায় হওয়ার সুবাধে ফোনকলে দলবল সহকারে ব্যাক্তি আক্রোশে নির্বাচন মূখী রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছে। তবে সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপি,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বেশ কয়েকটি ফেইক আইডি হতে একে অপরের দোষত্রুটি তুলে ধরে পোস্ট শেয়ার করাতে রাজনৈতিক,সামাজিক অবক্ষয় এমনকি প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মণিরামপুর উপজেলার কয়েকজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল-সমাজের ব্যাক্তিবর্গ।
চলতি মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ইতিমধ্যে মণিরামপুর উপজেলা সহ দেশব্যাপি পুলিশে সেনাবাহিনির যৌথ টহল ও গুপ্তচর বিরোধী অভিযান চলমান আছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন।



