Sunday, August 31, 2025

কালীগঞ্জে  স্ত্রীর নাম ব্য’বহার করে শুমারির টাকা আ”ত্মসাৎ পরিসংখ্যান কর্মকর্তার

Date:

Share post:

হুমায়ুন কবির কালীগঞ্জ,ঝিনাইদহ :
অর্থনৈতিক শুমারির কাজে “সুপারভাইজার”পদে নিজ স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পরিসংখ্যান তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদের কালীগঞ্জ উপজেলা  পরিসংখ্যান অফিসে। উক্ত অফিসের পরিসংখ্যান তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলক কুমার দত্ত তার স্ত্রী বনি দত্তকে কাগজে-কলমে নিয়োগ দেখিয়ে “সুপারভাইজার” পদের সকল সুবিধা ভোগ ও পারিশ্রমিক আত্মসাৎ করেছেন। স্ত্রী বনি দত্ত কালীগঞ্জ উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা না হলেও অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ এর মূল শুমারি কার্যক্রমে সরকারি শর্ত ভেঙে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ কমিটি “সুপারভাইজার” পদে তাকে নিয়োগ দেন। তাকে  উপজেলার ৭ নং রায়গ্রাম ইউনিয়নের একজন সুপারভাইজার হিসেবে দেখানো হয়। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, রায়গ্রাম  ইউনিয়নে অর্থনৈতিক শুমারি কার্যক্রমে ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ২ জন সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। স্বশরীরে মাঠ পর্যায়ে নিয়োগ প্রাপ্ত ১৩ জন কাজ করলেও তারা কখনো বনি দত্তকে কাজ করতে দেখেননি।
ইউনিয়নটিতে তথ্য সংগ্রহকারীরা এবং বাকি একজন সুপারভাইজার পরিসংখ্যান অফিসের সহায়তায় বানি দত্তের কাজ সম্পন্ন করে দিতেন। এমনকি কাজ শুরুর পূর্বের ট্রেনিং চলাকালীন সময়ও বনি দত্তকে দেখা যায়নি। অসৎ ও দুর্নীতিপরায়ণ স্বামী এবং অস্বচ্ছ  নিয়োগ কমিটির কারণে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক বাস্তবায়নকৃত অর্থনৈতিক মূল শুমারি কার্যক্রমে কাগুজে কলমে নিয়োগ পেয়ে সরকারি অর্থ লোপাট করেন বনি দত্ত। রায়গ্রাম ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহকারী মিতু দাস, আখি দাস ও জয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,বনি দত্ত নামে একজন সুপারভাইজার এর নাম কাগজে কলমে দেখলেও মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে তাকে কখনো দেখিনি। তবে কাগজে তার গ্রাম উল্লেখ ছিল রায়গ্রাম,কিন্তু এ নামে রায়গ্রামে কেউ আছে কিনা আমার জানা নেয়।
উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক শুমারিটি শুরু হয় ১০ ডিসেম্বর ২০২৪। যা চলে ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত মোট ১৫ দিনব্যাপী । সারা দেশে ৯৫ হাজার তথ্য সংগ্রহকারী এ শুমারিতে তথ্য সংগ্রহ করেন। দুর্নীতিবাজ স্বামীর সহায়তায় ভুল ঠিকানা উল্লেখ করে কাজ না করে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে নিয়োগ পেয়ে অর্থ আত্মসাতের  ব্যাপারে কথা বলতে বনি দত্তের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি  রিসিভ করেননি।
বনি দত্তের স্বামী পরিসংখ্যান তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলক কুমার দত্ত অনৈতিক উপায়ে স্ত্রীর নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারটি স্বীকার করে বলেন,তার নাম ব্যবহার হলেও কাজগুলো তো আমি করে দিয়েছি। এখানে সমস্যা কোথায়? স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও অসত্য তথ্য দিয়ে বনি দত্ত কিভাবে নিয়োগ পেলেন এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
ঝিনাইদহ জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপ- পরিচালক আব্দুল আলিম বলেন,ওই ইউনিয়নে একজন সুপারভাইজার নিয়োগ দেয়া হয়েছিল যিনি কাজ করেননি। তার পরিবর্তে বনি দত্তকে দেওয়া হয় । স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়া এবং কাজ না করে সরকারি অর্থ পাওয়ার ঘটনাটি অফিসিয়ালি অনিয়ম করা হয়েছে বলেও তিনি যোগ করেন।
অর্থনৈতিক শুমারির নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেদারুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতির ব্যাপারটি আমার জানা ছিল না। আমি খতিয়ে দেখছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সম্পর্কিত নিবন্ধ

সিরাজগঞ্জ তাড়াশে ডি/ভো/র্স লেটার পেয়ে অ/ভিমানে স্বামীর আ/ত্মহ/ত্যা

মোঃ লুৎফর রহমান লিটন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর শহরে স্ত্রীর ডিভোর্স লেটার পেয়ে মজনু পারভেজ (৩৯) নামে এক...

খাগড়াছড়িতে ৩ বছরের শিশুকে হ/ত্যা ক/রেছে মা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি সদরে শান্তিনগর এলাকায় ৩ বছরের ছেলে সন্তানকে হত্যা করেছে মা। শুক্রবার দিবাগতরাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে...

মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের কার্যকরী কমিটি বি”লুপ্ত ঘোষণা

মণিরামপুর প্রতিনিধি: সুন্দর ও সুষ্ট নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের বর্তমান কার্যকরী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা...

শ্রীপুরের দারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র দ্বি বাষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

মোঃ এমদাদ মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার ৫ নং দারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি বার্ষিক নির্বাচন অবাধ ও উৎসব মুখর...